ময়মনসিংহের গৌরীপুরের বাসিন্দা ইয়াসিন শেখ রাশিয়ায় চাকরির আশায় গিয়ে দালালের খপ্পরে পড়ে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে যোগ দিতে বাধ্য হন এবং বোমা হামলায় প্রাণ হারান। রাশিয়ায় কাজের জন্য পাড়ি জমিয়েছিলেন ইয়াসিন শেখ। কিন্তু সেখানে চাকরির নামে প্রতারণার শিকার হয়ে রাশিয়ান সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে বাধ্য হন। সাত মাসের মাথায় ২৬ মার্চ যুদ্ধক্ষেত্রে বোমার আঘাতে তার মৃত্যু হয়, যার খবর শুনে তার মা ফিরোজা খাতুন শোকে ভেঙে পড়েছেন এবং ছেলের মরদেহ ফেরত চাচ্ছেন।
ময়মনসিংহের গৌরীপুরের ইয়াসিন শেখের স্বপ্ন ছিল পরিবারের অভাব ঘোচানোর। তাই সাত মাস আগে রাশিয়ার একটি কোম্পানিতে কাজের জন্য যান তিনি। কিন্তু তিন মাস পর তাকে চাকরি ছেড়ে সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে বাধ্য করা হয়। সাত মাসের মাথায় ২৬ মার্চ রণক্ষেত্রে এক বোমা হামলায় নিহত হন ইয়াসিন। বিস্ফোরণে তার দেহ ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই মৃত্যু ঘটে। মৃত্যুর খবর পেয়ে তার মা ফিরোজা খাতুন কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। তার আকুতি, “অন্তত ছেলের মরদেহ যেন আমি শেষবারের মতো দেখতে পারি।”
নিহতের বড় ভাই রুহুল আমিন বলেন, “২২ ডিসেম্বর জানতে পারি ইয়াসিন সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। এরপর ২৬ মার্চ তার মৃত্যুর খবর পাই। আমরা ছেলের মরদেহ ফেরত চাই।” গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাজ্জাদুল হাসান জানান, বিষয়টি জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে খতিয়ে দেখে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে।
ইয়াসিন শেখ গৌরীপুর সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে বঙ্গবন্ধু কলেজে অনার্স পড়ছিলেন। ২০১৭ সালে বাবা মারা যাওয়ার পর পরিবারের দায়িত্ব নিতে চাকরির খোঁজে বিদেশ যান। বড় ভাই রুহুল আমিন কৃষিকাজ করে সংসার চালান। পরিবার ও এলাকাবাসী ইয়াসিনের মরদেহ দেশে ফেরানোর দাবি জানিয়েছে।
রাশিয়ায় কাজের স্বপ্ন নিয়ে পাড়ি জমালেও প্রতারণার শিকার হয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে প্রাণ হারিয়েছেন ইয়াসিন শেখ। তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রশাসন ও সরকারের পদক্ষেপ জরুরি বলে মনে করছেন স্বজনরা।
অনলাইন ডেস্ক
Comments: