দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে সরকারি জমি বরাদ্দের জন্য রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগ তুলেছে। পাশাপাশি, তার বিরুদ্ধে বোনের নামে ঢাকার গুলশানে একটি ফ্ল্যাটের মালিকানা হস্তান্তর করার জন্য ভুয়া নোটারি নথি ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে।
টিউলিপ সিদ্দিক, যিনি যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট সদস্য এবং মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। দুদক দাবি করেছে, টিউলিপ সিদ্দিক রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ঢাকার পূর্বাচলে সরকারি প্লট বরাদ্দ নিয়েছিলেন এবং তার বোন আজমিনা সিদ্দিকের নামে একটি ফ্ল্যাটের মালিকানা হস্তান্তরের জন্য ভুয়া নোটারি নথি ব্যবহার করেছিলেন। এই নথিতে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী গাজী সিরাজুল ইসলামের সিল থাকলেও, তিনি নিজে এই নোটারি করেননি এবং স্বাক্ষরটি তার নয়।
এছাড়া, তদন্তে জানা গেছে যে টিউলিপ সিদ্দিক প্লট পাওয়ার যোগ্য না হয়েও পূর্বাচলে জমি বরাদ্দ পেয়েছেন। দুদকের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন বলেছেন, ‘এটি হিমশৈলর চূড়ামাত্র। বর্তমানে আরও অনেক অভিযোগ রয়েছে যেগুলো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিবারের বিরুদ্ধে বড় ধরনের দুর্নীতি তুলে ধরবে।’
ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, সিদ্দিকের বিরুদ্ধে ২০১৫ সালে একটি হেবা দলিলের মাধ্যমে ফ্ল্যাটের মালিকানা হস্তান্তরের জন্য জাল সই ব্যবহার করা হয়। টিউলিপ সিদ্দিকের মুখপাত্র দাবি করেছেন যে, অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি এবং তিনি এই অভিযোগগুলো পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন।
দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, টিউলিপ সিদ্দিক ও তার পরিবারের সদস্যরা অবৈধভাবে সরকারি জমি বরাদ্দ নিয়ে এবং ভুয়া নোটারি নথি ব্যবহার করে সম্পত্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে আইন লঙ্ঘন করেছেন। এই তদন্তের পরিণতি সামনের দিনে স্পষ্ট হবে, যখন দুর্নীতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহার সংক্রান্ত আরও অনেক ঘটনা সামনে আসবে।
অনলাইন ডেস্ক
Comments: